Skip to content

কুরআন মজীদ সূরা আশ-শুরা আয়াত ৬

Qur'an Surah Ash-Shuraa Verse 6

আশ-শুরা [৪২]: ৬ ~ শব্দ অনুবাদ দ্বারা শব্দ

وَالَّذِيْنَ اتَّخَذُوْا مِنْ دُوْنِهٖٓ اَوْلِيَاۤءَ اللّٰهُ حَفِيْظٌ عَلَيْهِمْۖ وَمَآ اَنْتَ عَلَيْهِمْ بِوَكِيْلٍ (الشورى : ٤٢)

wa-alladhīna
وَٱلَّذِينَ
And those who
এবং যারা
ittakhadhū
ٱتَّخَذُوا۟
take
গ্রহণ করেছে
min
مِن
besides Him
ছাড়া
dūnihi
دُونِهِۦٓ
besides Him
তাঁকে
awliyāa
أَوْلِيَآءَ
protectors
অভিভাবকরূপে
l-lahu
ٱللَّهُ
Allah
আল্লাহ-ই
ḥafīẓun
حَفِيظٌ
(is) a Guardian
সংরক্ষক
ʿalayhim
عَلَيْهِمْ
over them
তাদের উপর
wamā
وَمَآ
and not
এবং নও
anta
أَنتَ
you
তুমি
ʿalayhim
عَلَيْهِم
(are) over them
তাদের উপর (নিযুক্ত হয়েছে)
biwakīlin
بِوَكِيلٍ
a manager
কর্ম বিধায়ক

Transliteration:

Wallazeenat takhazoo min dooniheee awliyaaa'al laahu hafeezun 'alaihim wa maaa anta 'alaihim biwakeel (QS. aš-Šūrā:6)

English Sahih International:

And those who take as allies other than Him – Allah is [yet] Guardian over them; and you, [O Muhammad], are not over them a manager. (QS. Ash-Shuraa, Ayah ৬)

তাফসীর তাইসীরুল কুরআন (Taisirul Quran):

যারা আল্লাহর পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি নযর রাখছেন, তাদের (কাজের) দায়-দায়িত্ব তোমার উপর নেই। (আশ-শুরা, আয়াত ৬)

Tafsir Ahsanul Bayaan

যারা আল্লাহর পরিবর্তে অপরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের কার্যকলাপের প্রতি দৃষ্টি রাখেন।[১] আর তুমি তাদের কর্মবিধায়ক নও। [২]

[১] অর্থাৎ, তাদের আমলগুলো পর্যবেক্ষণ করে সুরক্ষিত করে রাখেন, যাতে তাদেরকে তার প্রতিফল দান করেন।

[২] অর্থাৎ, তোমার এ দায়িত্ব নয় যে, তুমি তাদেরকে সৎপথে পৌঁছে দেবে অথবা তাদের পাপের কারণে তাদেরকে পাকড়াও করবে। বরং এ কাজ কেবল আমার। তোমার কাজ শুধু পৌঁছে দেওয়া।

Tafsir Abu Bakr Zakaria

আর যারা তাঁর পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে [১] গ্ৰহণ করে, আল্লাহ্ তাদের প্রতি সম্যক দৃষ্টিদাতা। আর আপনি তো তাদের উপর কর্মবিধায়ক নন।

[১] মূল আয়াতে أولياء, শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। আরবী ভাষায় যার অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। বাতিল উপাস্যদের সম্পর্কে পথভ্রষ্ট মানুষদের বিভিন্ন আকীদা-বিশ্বাস এবং ভিন্ন ভিন্ন অনেক কর্মপদ্ধতি আছে। কুরআন মজীদে এগুলোকেই “আল্লাহ ছাড়া অন্যদের ওলী বা অভিভাবক বানানো” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কুরআন মজীদে অনুসন্ধান করলে “ওলী’ শব্দটির কয়েকটি অর্থ জানা যায়। একঃ মানুষ যার কথামত কাজ করে, যার নির্দেশনা মেনে চলে এবং যার রচিত নিয়ম-পস্থা, রীতিনীতি এবং আইনকানুন অনুসরণ করে [আন নিসা; ১১৮-১২০; আল-আশরাফ; ৩, ২৭-৩০] দুইঃ যার দিকনির্দেশনার ওপর মানুষ আস্থা স্থাপন করে এবং মনে করে সে তাকে সঠিক রাস্তা প্রদর্শনকারী এবং ভ্রান্তি থেকে রক্ষাকারী। [আল বাকারাহ; ২৫৭; আল-ইসরা; ৯৭; আল-কাহাফ; ১৭ ও আল-জাসিয়া; ১৯] তিনঃ যার সম্পর্কে মানুষ মনে করে, আমি পৃথিবীতে যাই করি না কেন সে আমাকে তার কুফল থেকে রক্ষা করবে। এমনকি যদি আল্লাহ থাকেন এবং আখেরাত সংঘটিত হয় তাহলে তার আযাব থেকেও রক্ষা করবেন। [আন- নিসা; ১২৩-১৭৩; আল-আন’আম; ৫১; আর-রা'দ; ৩৭; আল-‘আনকাবুত; ২২; আল-আহ যাব; ৬৫; আয-যুমার; ৩] চারঃ যার সম্পর্কে মানুষ মনে করে, পৃথিবীতে তিনি অতি প্রাকৃতিক উপায়ে তাকে সাহায্য করেন, বিপদাপদে তাকে রক্ষা করেন। রুজি-রোজগার দান করেন, সন্তান দান করেন, ইচ্ছা পূরণ করেন এবং অন্যান্য সব রকম প্রয়োজন পূরণ করেন [হুদ;২০; আর-রা'দঃ ১৬, আল-আনকাবূত; ৪১]

Tafsir Bayaan Foundation

আর যারা তাঁর পরিবর্তে অন্যদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি সম্যক দৃষ্টিদাতা এবং তুমি তাদের কর্মবিধায়ক নও।

Muhiuddin Khan

যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখেন। আপনার উপর নয় তাদের দায়-দায়িত্ব।

Zohurul Hoque

আর যারা তাঁকে বাদ দিয়ে অন্যদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে, -- আল্লাহ্ তাদের উপরে পর্যবেক্ষক, আর তুমি তাদের উপরে কর্ণধার নও।